এই চা-দোকানে সারাদিন একটি কেট্লি তাত্ছে
আমি এক অলস খদ্দের বসে আছি ।
দোকানের দেয়াল ফুঁড়ে একটি মুখ বেরিয়ে আসতেই বুঝলুম
এ শুধু দোকান নয়, একটি গেরস্থালী
বউটি বলল আজ কী রান্না হবে ?
দোকানীটি কিছু বলল না, হাসল — যেন সেই হাসিতেই
দোকানের সব আলো গিয়ে পড়ল বউটির মুখে,
বউটি লজ্জায় ঘুরিয়ে নিল মুখ—
তখন সন্ধে ও রাতের মাঝ …
একটি সবজি ভর্তি ট্রেন ঝমঝমিয়ে এগিয়ে আসছে দোকানের দিকে ।
কাব্যগ্রন্থ :বাদামী কুঁজোর কথা । প্রকাশক : বাক্চর্চা ।
হরেকৃষ্ণবাবুর মেয়ের বাড়ি
আমাদের কোয়ার্টার থেকে দূরে হরেকৃষ্ণবাবুর মেয়ের বাড়ি দেখা যায়—
হলুদ রঙের বাড়ি, হরেকৃষ্ণবাবুর ছোট মেয়ের বাড়ি—
হরেকৃষ্ণবাবুর ছোট মেয়েরা জানে না, আমাদের বাসাটি কাদের !
শুধু দ্যাখে, আর ভাবে, রাতে ও দুপুরে তারা জল্পনা কল্পনা করে—
মাঝেমধ্যে চোখে পড়ে আমাদের নড়াচড়া, কামকাজ
আমরাও দেখি, হরেকৃষ্ণবাবুর ছোট মেয়ের বাড়ি
রাত্রে দেখি, দুপুরেও দেখি— হলুদ রঙের বাড়ি
পর্দা দোলে, কেঊ সরে যায়, সাপের মুখের মতো
সাইকেল-হ্যাণ্ডেল বারান্দায় পাহারায়, কেউ ঢোকে,
আমাদের কোয়ার্টার থেকে দূরে, দেখা যায়—
আমাদের উঠোনে জামগাছ,
জাম গাছের পাতা নড়ে, সেই পাতা ছায়া ভ্রম হয়ে
হরেকৃষ্ণবাবুর মেয়ের দরজায় পড়ে, মনে হয়
কে যেন বেরোল—হরেকৃষ্ণবাবুর মেয়ে, ছোট মেয়ে
হয়ত বা অন্য কেউ, অন্য কেউই হবে !
তোমার ঘর
এভাবে আবার আমি ধুলোমুখে ফিরে আসব—
এর আগে মাছের জন্য
মটর দানার জন্য
লাল তরমুজের জন্য অতৃপ্ত থেকেছি—
ফিরে এলে তুমি হয়ত দেখাবে সব
সিন্দুকের ডালা খুলে …
ফিরে এসেছি—
তোমার ঘরের কোণে একটি জলভরা বাদামী কুঁজো
আর চকচকে শূন্য গ্লাস !
তোমার স্মৃতিতে
হাতে রবার নিয়ে তুমি ঘুরছ, রোদ মুছবে ।
মাটিকে জাপটে থাকা রোদ, গাছের পাতায় লেগে থাকা রোদ,
বাতাসের আষ্টপৃষ্ঠ রোদ — মুছে
ক্ষয়ে যাবে রবার
মুছছে, আর ঝড়্ঝড়্ করে গুঁড়ো ঝরছে রবারের, রোদ্দুরের
রবারগুঁড়ো গাছে গিয়ে উঠছে আর সব গাছই হয়ে যাচ্ছে রবারগাছ
রোদ্দুরগুঁড়ো হাতে গিয়ে পড়ছে আর সব হাতই হয়ে যাচ্ছে রৌদ্রহাত
কাব্যগ্রন্থ : পঞ্চানন্দ খ্যাপার থানে । প্রকাশক : ছোঁয়া ।

No comments:
Post a Comment