২১ মার্চ, ১০১৯।
'আমেরিকার শাসকরা ভেবেছে, ভাবে জেলখানায় যাদের আটকে রাখা হয়েছে তারা নিজেদের ভাষায় লেখা কবিতার মধ্য দিয়ে নাশকতার বার্তা পৌঁছে দেয়, দেবে। কবিতার ভিতর দিয়ে কোন 'কোডেড মেসেজ' চলে যাবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়, জেলখানার ভিতর থাকে বাইরে।'
*
অনুবাদ বিষয়ক দুর্দশার কথা বলছিলাম বইমেলায়, কার সাথে আড্ডায়। আমাদের অনুবাদ কবিতা মানে বুদ্ধদেব সুভাষ শক্তি যা করে গেছেন তারই পুনরাবৃত্তি, এক দুটো শব্দের ভিন্নতা। এর ভেতরই এই আশ্চর্য বইটি এলো। শুধু অনুবাদ বিবেচনা নয়, বিষয় আঙ্গিকে এ বইটি গুরুত্বপূর্ণ। যন্ত্রণাদগ্ধ জীবনের কিছুটা রূপরেখা ধরা আছে গুয়ান্তানামো তে কারাবন্দিত্বে থাকা কবিদের কবিতায়, স্মৃতিকথায়।
*
শুধুই কি বিষয় আঙ্গিক! বইটি যার প্রচেষ্টার ফল, স্বর্ণেন্দু সেনগুপ্ত, মুলতঃ কবি। পিতার জন্ম হয়, বইটি আমার, বোধকরি অনেকেরই প্রিয়। এর বাইরে নিয়মিত অনুবাদ তো করছেনই। কিন্তু এ বইটির ক্ষেত্রে যা হয়, উনি শুধু কবিতা স্মৃতিকথার ভাষান্তর করে ক্ষান্ত হন নি, এর আগে উনি বিভিন্নভাবে উপলব্ধি করতে চেয়েছেন সভ্যতার অন্ধকার এই কারাগারটিকে, তার ভূমিকায়, কবিতা নির্বাচনে তা স্পষ্ট। অনুবাদক স্বীকার করেছেন এটি দু বছর প্রচেষ্টার ফল।
*
বইপত্তরের বই। বাংলাদেশে বুবুকস/নোকতা এদের পরিবেশক
.....................................................................
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০।
ডিটেনশন ক্যাম্পের কান্না যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে, কিছুটা উপলব্ধি আর নিজেকে জুড়ে দেবে এ বইটি। কলকাতা বইমেলায় কোথায় কোন স্টল জানিনা, শুধু বইপত্তরের বই এটুকু বলে দিতে পারি।
*
আজ দেখলাম আসামে এক ভদ্রমহিলা যতদিনে রাষ্ট্র কর্তৃক বৈধ নাগরিক বিবেচিত হয়েছেন ততদিনে তার জীবন ফুরিয়েছে, রয়ে গেছে কোলের শিশু, যে একদিন জানবে মানুষ নির্মিত রাষ্ট্রভাবনা তার মায়ের হত্যাকারী।
গুয়ান্তানামো বইটির দিকে চোখ গেলো।
No comments:
Post a Comment