১ মে, ২০২০।
গুয়ান্তানামো আমেরিকা দ্বারা অধিগৃহীত চতুর্দিকে সমুদ্রবেষ্টিত একটি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প, সেটি কিউবাতে অবস্থিত ।
নিরপরাধ বন্দিদের এখানে এনে অকথ্য অত্যাচার চালানো হয় । যারা তাঁদের ধরিয়ে দেবে এমন অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে যা তাদের সাতবছরের বেতনের সমান । ঐ অর্থের লোভে আমেরিকার হাতে সন্ত্রাসবাদী বলে তাদের দেশের রাস্ট্রশাসকই চক্রান্ত করে বন্দি করে কান্দাহার, বাগরামে অকথ্য অত্যাচার চালায়, শেষ ঠিকানা গুয়ান্তানামো।
এইসব নিরাপরাধ বন্দিদের মধ্যে সাংবাদিক, কবি-প্রাবন্ধিক, চাকরির খোঁজে দিকভ্রান্ত মানুষ আরও অনেকেই আছে।
সেই সব বন্দি মানুষেরা সময় কাটানোর জন্য বেছে নেয় নানা শিল্পমাধ্যম- হস্তশিল্প, কবিতা, ছবি আঁকা ইত্যাদি । মুক্ত হয়ে ডায়েরি, স্মৃতিকথা ও সাক্ষাৎকারে তাদের অসহ্য যন্ত্রণাময় জীবনের কথা জানা যায় । কেউ আত্মহত্যা করে, অনেকে ব্যর্থ হয়ে কষ্টকর জীবনকেই বেছে নেয় । বাড়িতে তাদের মা, বাবা, স্ত্রী সন্তান । এরা প্রত্যেকেই মুসলীম ।
ক্রোধ ও যন্ত্রণায় অধিকাংশ সময় শিল্পবোধ বজায় না থাকলেও এক ভিন্ন ও সরল আর্ত সৎ ও সাহসী স্বর পাওয়া যায় এদের রচনায়, আল্লার কাছের তাদের সমস্ত অভিযোগ ।
'এখানে পাপাচারে পাহাড়ের চোখে জল আনে'
-আবদুল্লা থানি ফারিস আল আনাজি
'বছরের পর বছর, আমাদের কারাগারে বন্দি রেখেছে, অভিযোগহীন,কারণ আমরা মুসলমান'
-আদনান ফারহান আবদুল লতিফ
'ভেবে দেখো, কীসের জন্য একজন বাধ্য হয়
নিজেকে হত্যা করতে, অথবা অন্যকে'
-শেখ আবদুর রহিম মুসলিম দোস্ত
'আমি বন্দি, কিন্তু অপরাধী তারা যারা আমায় বন্দি করেছে
এমন উপলব্ধি আমাকে বিমূঢ় করে রাখে ।'
-সামি আলহাজ
'কেটে নেওয়া হাতের হাতমোজা দরকার পড়ে না,
ভেঙে যাওয়া হৃদয়ের নতুন সঙ্গিনীর আর প্রয়োজন নেই'
-তৌফিক বিহানি
'ও সমুদ্র, সুজনের খবর আমাকে শোনাও
বিশ্বাসঘাতক শৃঙ্খলের জন্য আসলে নয়, আমি তোমার মধ্যে ঝাঁপ দিতে চাই
পৌঁছে যেতে চাই প্রিয় পরিজনের কাছে বা তলিয়ে যেতে চাই তোমার গভীরে ।
.
.
.
.
কবির শব্দগুলি থেকে উৎসারিত হয় আমাদের সকল ক্ষমতা,
তার কাব্য আমাদের দগ্ধ হৃদয়ের প্রকৃত উপশম।'
-ইব্রাহিম আল রুবাইস
'আমি ঈদের রুটি খাচ্ছি, চোখের জল দিয়ে ।
আমার তো কিছুই নেই'
-শেখ আব্দুর রহিম মুসলিম দোস্ত
কারাগার থেকে মক্তি পেয়ে কেউ সন্ত্রাসীদের দলে নাম লেখায়(কেন লেখায় বলাই বাহুল্য), কেউবা বন্দিদের মুক্তিসংগ্রামের সংগঠন তৈরি করে ।
এমন অমানবিক ব্যবস্থা আজও চালু আছে ভাবলে আমাদের শরীর আতঙ্কে শিউরে ওঠে ।
ভাবুন তো বন্দিদের চোখের সামনে রক্ষী ও রক্ষিনী সঙ্গমে লিপ্ত হয়,প্রস্রাব যদি খেতে হয় ও তা দিয়ে স্নান করতে বাধ্য করা হয়, তীব্র ঠাণ্ডায় দিনের পর দিন উলঙ্গ রাখা হয়, উল্টো করে দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখা হয়, নিজ প্রস্রাবে সারা শরীর ভিজে থাকে, নিরপরাধ মানুষকে দিনের পর পর দিন বোকাচোদা করে খিস্তি দিয়ে কথা বলা হয়... তাহলে তারা সন্ত্রাসবাদী ছাড়া আর কী হবে...
গুয়ান্তানামো
(স্মৃতিকথা, সাক্ষাৎকার, কবিতা, ছবি)
সংকলন সম্পাদনা ভাষান্তর
স্ব র্ণে ন্দু সে ন গু প্ত
১৬০.০০
No comments:
Post a Comment