কে ব ল ই দৃ শ্যে র জ ন্ম হ য়।

কে ব ল ই  দৃ শ্যে র  জ ন্ম  হ য়।
বিশ্রাম।

গ্রন্থ-আলোচনা।

 

উজ্জ্বল সিংহ

ঐশ্বর্যের আলো, আলোর ঐশ্বর্য

স্বর্ণেন্দু সেনগুপ্তের কাব্যগ্রন্থটি চারটি পর্যায়ে বিভক্ত। প্রথম, সামান্যকে জানার ইচ্ছে; দ্বিতীয় — বেড়াল, এরকম একটি ধারণা; তৃতীয় — পিতার জন্ম হয়; চতুর্থ — হে আকাশ রেবতীভূষণ।

প্রথম পর্যায়টিতে স্বর্ণেন্দুকে মনে হয় স্মৃতি ও বিষাদে আচ্ছন্ন, নিসর্গ ও আত্মমগ্নতায় বিজড়িত, তন্নিষ্ঠ এক কবি। সূচনায় তিনি লিখেছেন — ‘স্মৃতি নিয়ে ঘোরাফেরা / প্রেরণাকে একভাবে উপভোগ করার ইচ্ছে রয়ে গেছে / সেই রোদ, সেই সমসাময়িকতার শেষ নেই কোনো ...’, সবশেষে — ‘সামান্যকে জানার ইচ্ছে / অসামান্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো নয় / একটি হাঁসের থেকে, স্পষ্ট হয়েছে তার নিভৃত হাসির ছবিগুলি’। একটি চমৎকার কবিতা প্রথমভাগে রয়েছে ‘প্রত্নযুগের স্মৃতি’ এবং বস্তুত স্বর্ণেন্দুকে কবিস্বভাবে চেনা যায় এই ‘সামান্যকে জানার ইচ্ছে’ দিয়েই।

দ্বিতীয় বিভাগে তিনি মূলত বেড়ালকে কেন্দ্র করে ব্যক্ত করেছেন তাঁর মনোভাব, সে মনোভাবে বেড়াল মাঝে মাঝে আবছায়া প্রতীকও হয়ে ওঠে — ‘শুধু বেড়ালবর্ণেরা চোখের আলো জ্বেলে রেখে যায় / প্রতিদিন ঐশ্বর্যের আলো, আলোর ঐশ্বর্য এক হতে থাকে / ভূমির কিনারা ঘেঁষে কাঠ ও বিড়ালি মিশে যায়’, লক্ষণীয় এই পঙ্‌ক্তিটি, কীভাবে বেড়াল ছাড়া অন্য একটি প্রাণীরও আভাস ফুটে উঠেছে।

‘পিতার জন্ম হয়’ অংশে স্বর্ণেন্দু বংশ পরম্পরার ধারণা ও তজ্জনিত এক স্বপ্নময় কৌতূহলকে লিপিবদ্ধ করেছেন এভাবে — ‘বেলা তার দীর্ঘ হয়, দীর্ঘতার শেষ নেই কোনো / গাছের ভিতর থেকে, পাখির ভিতর থেকে, ছায়া আসে ছায়া উড়ে যায় / তবু দেখি ছায়াহীনতার স্মৃতিগুলি গৃহস্থের অন্ধকারে মিশে যেতে থাকে...’।

‘হে আকাশ রেবতীভূষণ’ অংশে স্বর্ণেন্দু তাঁর কবিস্বভাব থেকে বেরোবার চেষ্টা করেছেন, বলার ভঙ্গি কতকটা প্রত্যক্ষ, ফলে মেজাজ কখনো বা হাল্কা হয়ে যায়। 

...

শিলাদিত্য। নভেম্বর, ২০১৬।

No comments:

Post a Comment

কবিতা।

  কবিতা : স্বর্ণেন্দু সেনগুপ্ত । বর্ষার প্রবলনূপুরে... বর্ষার প্রবলনূপুরে এসে বসে আছে একখানি কাক, ভিজে গেছে তার এই বসে থাকাটুকু। অনেক অতীত...